ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আদালতে প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালকের জবানবন্দি ও তদন্তের নতুন মোড়
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো তরুণ নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। যে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই রিকশার চালক মো. কামাল হোসেন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ সাক্ষী কামাল হোসেনকে আদালতে হাজির করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ওসমান হাদি মতিঝিল এলাকার খলিল হোটেল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশ্যে রিকশায় রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে বিজয়নগর এলাকায় একটি চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে আততায়ী তাকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে। রিকশাচালক কামাল হোসেন পুরো ঘটনার বর্ণনা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর এই হামলার শিকার হওয়ার পর হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের পরিবারের সদস্য এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা রয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে স্বাধিকার আন্দোলনের সময় থেকেই বিরোধী মত দমনে হত্যার পথ বেছে নিয়েছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও রাজপথে রক্ত ঝরানো হয়েছিল। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তা দীর্ঘ কয়েক দশক রাজনীতিকে কলুষিত করেছে।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে ডা. মিলনের হত্যাকাণ্ড যেভাবে স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত করেছিল, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানেও অসংখ্য ছাত্র-জনতার রক্তে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হয়েছে। ২০২৫ সালে এসে ওসমান হাদির মতো একজন উদীয়মান নেতার হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, একটি গোষ্ঠী এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাজনৈতিক সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। তবে রিকশাচালক কামালের মতো সাধারণ মানুষের আদালতে নির্ভয়ে জবানবন্দি দেওয়াকে বিশ্লেষকরা আইনের শাসনের নতুন বিজয় হিসেবে দেখছেন।
শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এই রাজনৈতিক উত্থান ও সাধারণ মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা অনেকের কাছেই হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যেভাবে তরুণ নেতৃত্ব যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী করেছিল, হাদিও হয়তো ২০২৫-এর নির্বাচনে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে তেমনই এক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাদি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা ২০২৫ সালের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সূত্র: ১. ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত ও ডিবি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বুলেটিন। ৩. ইনকিলাব মঞ্চের দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও আসামিদের তালিকা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |